
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনায় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন এবং নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চকক্ষে ‘সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ (পিআর) পদ্ধতি চালু করা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির মধ্যে দর-কষাকষি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
রাষ্ট্রের একচ্ছত্র ক্ষমতা কমাতে সংবিধান সংস্কার কমিশন দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব দেয়। কমিশন চেয়েছিল উচ্চকক্ষ বা ‘সিনেট’ হবে একটি অতিরিক্ত তত্ত্বাবধায়নমূলক স্তর, যা নিম্নকক্ষের নিরঙ্কুশ আধিপত্য নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। বিএনপিসহ প্রায় সব দলই উচ্চকক্ষ গঠনে নীতিগতভাবে একমত হলেও এর গঠন ও ক্ষমতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব সামনে এসেছে।
সংস্কার আলোচনার মূল টানাপোড়েন ছিল উচ্চকক্ষের নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে:
কমিশনের প্রস্তাব: উচ্চকক্ষে নির্বাচন হবে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে। অর্থাৎ, জাতীয় নির্বাচনে একটি দল সারা দেশে মোট প্রদত্ত ভোটের যত শতাংশ পাবে, সেই অনুপাতে উচ্চকক্ষ বা সিনেটে আসন পাবে।
বিএনপির অবস্থান: বিএনপি চেয়েছিল উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হবে জাতীয় সংসদে (নিম্নকক্ষ) প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে—যেমনটি বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পিআর পদ্ধতি চালু হলে উচ্চকক্ষে কোনো একটি দলের একক নিয়ন্ত্রণ থাকা কঠিন হতো। কারণ, ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো নির্বাচনেই একটি দল এককভাবে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। এমনকি সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট।
তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রমতে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে বিএনপিকে পিআর পদ্ধতি মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে দলটির পক্ষ থেকে শেষ পর্যন্ত এতে সায় দেওয়া হয়নি।
সংস্কারের এই টানাপোড়েন সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ স্বাক্ষর করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমানো এবং সাংবিধানিক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হলেও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। উচ্চকক্ষকে মূলত সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা নিয়ে এখনো রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
কথা২৪/নিউজ ডেস্ক
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।